ফ্রিজের ভালো কম্প্রেসার চেনার উপায় । ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকার?

হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। বন্ধুরা বলতে গেলে আমাদের সবারই বাড়িতে ফ্রিজ আছে । আবার আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা ফ্রিজ কিনতে চাচ্ছেন।কিন্তু আমরা সবাই জানেন না ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকার? ফ্রিজের কম্প্রেসার চেনার উপায়? কোন ফ্রিজ কিনলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এছাড়া অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে জাগে।

ফ্রিজের ভালো কম্প্রেসার চেনার উপায় । ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকার?
     ফ্রিজের ভালো কম্প্রেসার চেনার উপায় । ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকার?

ফ্রিজ কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

বন্ধুরা ফ্রিজ কেনার আগে অনেক কিছু চেক করে নিতে হবে। তাছাড়া ফ্রিজ কেনার পর আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক ফ্রিজ কেনার আগে কি কি জানা দরকারঃ

বন্ধুরা ফ্রিজের মত মূল্যবান জিনিস কেনার আগে আমাদের প্রথমে এই আটটি বিষয়ে জানতে হবে। তা না হলে 10 থেকে 15 বছরের জন্য যে টাকা দিয়ে ফ্রিজ কিনছেন । সেটা কিনে কিন্তু আপনি লস করবেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আপনি কিন্তু নানা সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

ফ্রিজ কেনার আগে সর্বপ্রথম আপনাকে ফ্রিজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সব শুনে ফ্রিজ কিনতে যেতে হবে। তা না হলে আপনি লস করবেন এবং আপনার কষ্টের টাকা সব শেষ হয়ে যাবে।

চলুন জেনে নি কোন বিষয়গুলোর উপর খেয়াল রেখে ফ্রিজ কিনে লস করবেন না। চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-

ফ্রিজ কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

১ । ফ্রিজ কেনার আগে অবশ্য আপনি খেয়াল করবেন ফ্রিজে পেছনে কালো বড় একটি মেশিন থাকে। অবশ্যই এটা আপনারা খেয়াল করেছেন। এটা হচ্ছে কম্প্রেসর । এটাই হল ফ্রিজের মেন কম্পনেন্ট। এর ভেতরে একটি কয়েল থাকে সেই কয়েলটি তামার অথবা অ্যালুমিনিয়ামের হতে পারে। যদি সেই কোয়ালিটি তামার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার ফ্রিজ নিবেন। আর যদি অ্যালুমিনিয়ামের হয়ে থাকে তাহলে সেই ফ্রিজটি নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

বন্ধুরা অ্যালুমিনিয়ামের কয়েলের থেকে তামার কয়েল অনেক ভালো হয় । একটি তামার কয়েল 10 থেকে 12 বছর খুব সহজেই চলে কিন্তু অ্যালুমিনিয়ামের কয়েল সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গলে যাই। যার ফলে ফ্রিজের কম্প্রেসর নষ্ট হয়ে যায় । তাই বন্ধুরা ফ্রিজ কেনার আগে তামার কয়েলটি চেক করে নেবেন।বন্ধুরা এখন প্রশ্ন হতে পারে; কিভাবে বুঝব  ফ্রিজের কম্প্রেসার এর ভেতরে তামার কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে কিনা?

ফ্রিজের কম্প্রেসার এর ভেতরে তামার কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে কিনা চেক করার উপায়ঃ

বন্ধুরা ফ্রিজের ভেতরে তামার কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে কিনা চেক করার জন্য আপনার হাতের স্মার্টফোনটির যেকোনো ব্রাউজার এ প্রবেশ করবেন। তারপর সার্চ করবেন আপনার ফ্রিজের মডেল নাম্বার দিয়ে। দেখবেন অনেক ওয়েবসাইট আসবে । সেখান থেকে একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন। দেখবেন ওয়েবসাইটের ভেতরে সবকিছু লিখা আছে।

২। বন্ধুরা কম্প্রেসার এর পরে ফ্রিজের ভেতরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল কনডেন্সার পাইপ। ধরেন আপনার ফ্রিজের কম্প্রেসার এর ভেতরে তামার কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের কয়েল দিয়েছে এখন আপনারকনডেন্সার পাইপ এ  যদি স্টিল ইউজ করে থাকে । তাহলে আপনি ভালো সার্ভিস পাবেন না । আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে তামার পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আপনি ভালো সার্ভিস পেয়ে যাবেন।বন্ধুরা তামার পাইপে খুব সহজে ঠান্ডা হয়ে যায় । যার ফলে দ্রুত  ঠান্ডা হয় এবং ইলেকট্রিক বিল কম আসে।বন্ধুরা অবশ্যই আপনাকে চেক করে নিতে হবে আপনার ফ্রিজে ব্যবহৃত কনডেন্সার পাইপটি তামার।

৩।ফ্রিজের ভেতর দরজা বা অন্যান্য জায়গায় প্লাস্টিক বা আবরণ থাকে । সেটা আসলে কি ফুড গ্রেডেট কিনা সেটা চেক করতে হবে। ফুড গ্রেডেট না হলে যে প্রবলেমটা হবে । এই   প্লাস্টিক থেকে এক ধরনের গন্ধ বের হয়। যখন আপনি ফ্রিজটি চালু রাখবেন তখন আপনার খাবারের মধ্যে সেই খারাপ গন্ধ চলে আসবে । যার ফলে খাবারের স্বাদও পাবেন না  এবং খাবার খেতে মন যাবে না । খাবারটি স্বাস্থ্যসম্মত থাকবে না।

আর যদি এই প্লাস্টিকটি ফুড গ্রেডেড হয় তাহলে সে গন্ধটির আসবে না । আপনার খাবারটি স্বাস্থ্যসম্মত থাকবে এবং খাবারটির গুণগত মান ঠিক থাকবে। ফুড গ্রেডেড চেক করার জন্য আপনি যে দোকান থেকে ফ্রিজটি কিনতে গিয়েছেন সেই দোকানদারকে বলতে পারেন অথবা ফ্রিজের ভেতরে একটি স্টিকার দেওয়া থাকবে সেই স্টিকার দেখে আপনি বুঝে নিতে পারবেন । এছাড়া বন্ধুরা, আপনি অনলাইনে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন।

বন্ধুরা যদি ফুড গ্রেডেড হয়ে থাকে তাহলে আপনারা ফ্রিজটি কিনবেন। আর যদি ফুড গ্রেডেড না হয়ে থাকে তাহলে ফ্রিজটি কিনার দরকার নেই । এত টাকা দিয়ে ফ্রিজ কিনার যদি খাবার খেতে না পারা যায়। তাহলে ফ্রিজ কেনার মানেটা কি। ফ্রিজ কিনলে সবটাকেই পানিতে যাবে।

৩। বন্ধুরা ফ্রিজ প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে ।

(a) Frost Fridge

(b) Non Frost Fridge

বন্ধুরা আমরা কনফিউজ এর মধ্যে পড়ে যাই যে কোন ফ্রিজটি নেব। এজন্য প্রথমে আমাদের জানতে হবে Frost Fridge কোন গুলা।বন্ধুরা যে ফ্রিজগুলোর ভেতরে বরফ জমে থাকে এবং খাবারের সাথে বরফ লেগে থাকে সেগুলো হল Frost Fridge। বন্ধুরা এই ফ্রিজ এ অনেক সমস্যা রয়েছে । যেমন ফ্রিজে বরফ জমার ফলে দরজা আটকে যায় । অনেক সময় ফ্রিজ খুলতে অসুবিধা হয় । খাবারগুলোতে অনেক বরফ থাকার ফলে খাবারগুলো অতিরিক্ত জমে যায়।

বন্ধুরা Non Frost Fridge এ তেমন বরফ জমে না । যার ফলে দরজা আটকায় না। খাবারগুলোতে মধ্যেই গরম করা যায়। বন্ধুরা আপ্নারা যদি গ্রামে বসবাস করেন তাহলে আপনাদের জন্য Frost Fridge ভালো হবে । কারণ গ্রামে অনেক কারেন্ট চলে যায়। Frost Fridge  ফ্রিজ এ বরফ জমার ফলে কারেন্ট চলে যাওয়ার পড়েও খাবার গুলা ২-৩ দিন ভালো থাকে। আর Non Frost Fridge  ফ্রিজে খাবার বরফে জমে যায় না। যার ফলে কারেন্ট যাওয়ার কিছুক্ষণ পড়েই খাবার গুলা নষ্ট হতে থাকে।

এই পোস্ট গুলা পড়তে পড়েনঃ

১।সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনার আগে কি কি চেক করতে হবে?

2।১৫ হাজার টাকায় পিসি । কম বাজেটে ভালো কম্পিউটার

ফ্রিজে কয় ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয় ? ফ্রিজের কোন গ্যাসটি ভালো?

৪ ।ফ্রিজ কেনার আগে অবশ্য আপনি খেয়াল করবেন আপনার ফ্রিজে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।বাজারে কিন্তু তিন ধরনের গ্যাস পাওয়া যায় এবং ফ্রিজে তিন ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একটি হলো R12 আরেকটা হলো R134a এবং শেষ আরেকটি হল R600a.

বন্ধুরা এই তিনটা গ্যাসের মধ্যে সবথেকে ভালো হলো R600a। বন্ধুরা এই গ্যাসটা অন্যান্য গ্যাসের থেকে অনেক হালকা যার ফলে খুব সহজে মুভ করতে পারে । এই গ্যাসটি পরিবেশ বান্ধব। যার ফলে দ্রুত ঠান্ডা হয়। এবং অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।এই গ্যাসে হিটিং ইস্যু অনেক কম যার ফলে আপনার পিসটি গরম হবে না।বন্ধুরা ফ্রিজ কেনার সময় সর্বপ্রথম দেখবেন আপনার ফ্রিজে এই গ্যাসটি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।

ফ্রিজে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে? চেক করার উপায় কি?

বন্ধুরা ফ্রিজে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। চেক করার জন্য প্রথমে আপনাকে জানতে হবে ফ্রিজের মডেল নাম্বার। ফ্রিজের মডেল নাম্বারটি আপনারা সংরক্ষণ করে । আপনার হাতে স্মার্ট  ফোনের ব্রাউজার এ গিয়ে সার্চ করতে হবে সেই মডেল নাম্বারটি । মডেল নাম্বারটা সার্চ করার পরে দেখতে পেয়ে যাবেন। অনেক ওয়েবসাইট এসেছে । সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আপনারা দেখতে পেয়ে যাবেন ফ্রিজে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।

বন্ধুরা আজকের পোস্টটি এখানে শেষ করছি । এমন মজার মজার শিক্ষানীয় পোস্ট পেতে আমাদের সাথে থাকুন । আর বন্ধুরা ফ্রিজ কেনার আগে অবশ্যই ফ্রিজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সকল কিছু চেক করে নেবেন। পাশাপাশি আপনারা ইউটিউব ফেসবুকসহ সকল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরও বেশি ধারণা নিয়ে ফ্রিজ কিনতে যাবেন। সেক্ষেত্রে আপনার ফ্রিজটি ভালো হবে এবং আপনি ঠকবেন না। আল্লাহ হাফেজ

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *